বুধবার রাতটা হঠাৎই কলকাতায় রবিবার সন্ধ্যের মত হয়ে উঠেছিল। স্টেডিয়াম জুড়ে দর্শক। টিভির পর্দায় অসংখ্য চোখ। হাত জোড় করে ভগবানের কাছেই একটাই প্রার্থনা কমপক্ষে ৩ টে গোল। স্বপ্ন সত্যির দিকে কিছুটা এগিয়েছিল। কিন্তু কে জানত স্বপ্ন ভাঙবে এটিকের-ই গতবারের নায়কের গোলেই। অবশেষে এই ম্যাচে ২-১  জয় এনে দিল চেন্নাইকে। ৩ গোলে এগিয়ে থাকা মাতরাজ্জির দল আরও এক গোল করে ৪-২ এর রেখা টেনে দিল কলকাতার ঘরে।
কলকাতার দল বুধবারে যে ভাবে মাঠে নেমেছিল তাতে প্রথম থেকেই মনে হয়েছিল আজ ভাগ্য হয়ত এদের সঙ্গেই। কিন্তু সময় যেতেই প্রতিপক্ষের গোলকিপার অবিশ্বাস্য ভাবে নিজেদের খেলায় ধরে রাখেন। হিউম, দ্যুতি, লেকিচ একের পর এক সুযোগ পেয়েও তাকে গোলে রূপান্তরিত করতে পারেনি। হাবাস ৩-৫-২ সাজিয়ে যে ছক তৈরি করেছিল তাতে মাতরাজ্জির ছেলেদের আটকানো গেলেও কাজের কাজটি করতে পারেনি কলকাতা।
 ম্যাচের শুরুতে লেকিচের গোল কলকাতাকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন। অসাধারণ পারফর্মেন্স গোটা স্টেডিয়ামকে মাতিয়ে রেখেছিল। খেলার শেষের দিকে হাবাসের গোল স্বপ্ন বাড়িয়ে তোলে। ড্র হলেও যে আরও একটা সুযোগ পাবে। কিন্তু এরপরেই মাতরাজ্জির শেষ কার্ড ফিকরু কে মাঠে নামালেন।  গত বারের চ্যাম্পিয়ন দলের অন্যতম সতীর্থ মাঠে নেমেই চেন্নাইকে জয় এনে দিলেন। তবে এই গোলের ক্ষেত্রে কলকাতার গোলরক্ষক  এর ভুলের মাশুল দিতে হল তার দলকে।
চেন্নাইকে কোন রকম ভাবে গোল করার জায়গায় পৌছতে দিচ্ছিলেন না। হিউম, গ্যাভিলনরা। মেন্ডি, মেন্ডোজা, জেজে, এলানো ব্লুমার কে কিছুতেই উপরে উঠতে দেয়নি কলকাতা। কিন্তু শেষে মিরাকেল হওয়ার সপ্নকে ভেঙেই দিলেন ফিকরু।
অসাধারণ খেলেও সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হল কলকাতাকে। গোয়ার সঙ্গে এবার ফাইনালে লড়াই চেন্নাই এর। কালকের ফলাফল এ নিশ্চয় খুশি নয় কলকাতার দর্শক কিন্তু যে খেলা হয়েছে এই ম্যাচে টা দারুন ভাবে উপভোগ করবে সকলে।