কলকাতা – ২
মুম্বাই-৩
চেন্নাই এর প্রকৃতি হার মানিয়ে নতুন এক মুম্বাই ফিরে এল কলকাতা স্টেডিয়ামে। গতি, খিদে, জোশ সবকিছুর কাছে পরাস্ত হতেই হল কলকাতাকে। ২-৩ এ জিতে কলকাতার ঘরের মাঠের দর্শকদের কষ্ট দিল হয়ত। কিন্তু নিখাদ ফুটবল উপহার দিল মুম্বাই। তবে কলকাতাও আজ এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ ছিল। গোল পরিশোধও করতে থাকে তারা। কিন্তু খেলার শেষে সনির পা থেকে সেই অসাধারণ গোল দলকে ৩ পয়েন্ট এনে দেয়।
খেলার প্রথম থেকেই কলকাতার আক্রমন ছিল। প্রথমেই দুটি গোলএর সুযোগ হারান হিউম ও দ্যুতি। এরপর বেশ কিছু সুযোগ আসে কলকাতার। ৪৫ মিনিটের কলকাতার হয়ে প্রথম গোল করেন হিউম। ৯০ মিনিটে গোল পান আরাতা। দুর্দান্ত ম্যাচ দেখল কলকাতা স্টেডিয়াম। গ্যাভিলন গোল না পেলেও অসাধারণ খেলেছেন তিনি। তিনি যে কত ভাল ফুটবলার তা বুঝিয়েছেন পরতে পরতে।
মুম্বাই এর হারাবার কিছু ছিল না। টাই প্রথম থেকেই চাপহীন খেলেছেন অ্যাানেলকার ছেলেরা। চেন্নাই এর ওই দুর্যোগকে কাটিয়ে আজই সকালে ফেরেন কলকাতায়। এরপরেও কোনরকম ক্লান্তি ছিল না দলে। বরং বলাই যায় বিশ্রাম পাওয়া পা গুলো অসাধারণ ফুটবল খেলল। খেলার শুরুতেই গোল করেন সানি নর্ডে। এই গোল এ যে গতি ছিল তা কারোর পক্ষেই আটকানো সম্ভব নয়। তবে কলকাতার রক্ষন ভাগ এর জন্য নিজেদের কিছুটা দোষ দেবে নিশ্চয়। অফ সাইডের আশায় যখন গোটা রক্ষন ভাগ দাড়িয়ে যায় সেই সুযোগই নেই সনি। ৮০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সুনীল ছেত্রি। এই গোল মুম্বাই এগোলেও সমতায় ফেরান কলকাতা। খেলা যখন প্রায় শেষ ঠিক তখনই সনি নর্ডের গোল দলকে জয়ের মুখ দেখায়। হয়ত মুম্বাই নতুন করে কিছু পাবে এই জয়ে। কিন্তু ভাল ফুটবল দর্শকদের মনে অনেক দিন থকে। সেই সব ম্যাচ থেকেই তৈরি হয় দর্শকদের তারকা। সেইরকম এক দিন উপহার পেল অ্যাানেলকারা।
সেলিম হয়ত হিরো অব দি ম্যাচের তকমা পান কিন্তু এই সম্মান আসতেই পারত সনি নর্ডের কাছে। এই ম্যাচের শেষে ১৪ ম্যাচ থেকে কলকাতা পেল ২৩ পয়েন্ট। মুম্বাই ১৪ ম্যাচ থেকে ১৬ পয়েন্ট।  তবে সব শেষে আজ ধন্যবাদ দিতে জয় এই ম্যাচের সংগঠক দের। যে ভাবে চেন্নাই থেকে মুম্বাই এর দলকে কলকাতায় নিয়ে এল তা অবশ্যই ভারতীয় ফুটবলের জন্য ভাল দিক।